magazine_cover_27_march_17.jpg

 

Home bollywood interview template “আমি তো তবু সেক্সি, হরর কুইনের ট্যাগ জোগাড় করেছি, অনেকে সেটাও পারেনি”

“আমি তো তবু সেক্সি, হরর কুইনের ট্যাগ জোগাড় করেছি, অনেকে সেটাও পারেনি”

Bipasha-Basu-img04

একটি ফ্যাশন উইক উপলক্ষে কলকাতায় এসেছিলেন বিপাশা বসু। কলকাতার বুকে একটি পাঁচতারা হোটেলে বসে জীবনের কথা থেকে বিয়ে নিয়ে মন খুলে কথা বললেন তিনি। শুনলেন ঋষিতা মুখোপাধ্যায় …

- – - – - – - – - – - – - – - – - -

এতদিন ধরে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির সদস্য আপনি। তা ফ্যাশন শব্দটির মানে আপনার কাছে কী?
কমফর্ট। আমি এমন পোশাক পরি বা পরতে ভালবাসি, যেটা পরে আমি আরাম পাই। কোনও স্টাইলিস্টের পরামর্শ মেনে বা ফ্যাশন ডিজ়াইনারের কথামতো আমি পোশাক পরি না। একজন মডেলের পাশাপাশি আমি একজন অভিনেত্রীও, তাই আমি যেটা পরব, সেটা অনেকেই অনুসরণ করবে, এই কথাটাও আমাকে মাথায় রাখতে হয়। তাই কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমি কোনও পোশাক পরি না।

 

এতদিন হয়ে গেল ফ্যাশন জগতে। প্রচুর র‌্যাম্পওয়াকও করেছেন। আজও র‌্যাম্পে ওঠার আগে কী মনে হয়?
প্রথমদিনের মতো এখনও মনে হয় এই রে এবার বোধহয় র‌্যাম্পে পড়ে যাব আমি। আই হেট হিল্স! হিল্স পরতে খুব ভয় লাগে আমার! ফ্ল্যাট শুয়েই আমি স্বচ্ছন্দ। কিন্তু দুঃখের বিষয় কী বলব, মডেলিং দিয়ে কেরিয়ার শুরু করি। আর সেখানে তো হিল্স পরতেই হবে। তবে অভিনয় করতে গিয়ে বেঁচে গিয়েছি। হিরোরা খুব একটা লম্বা নয়। তাই সেখানে হিল্স পরতে হয় না। আমার হ্যাজ়ব্যান্ড করণও আমার চেয়ে লম্বা নয়, বরং বেঁটেই। তাই পার্সোনাল লাইফেও হিল্স পরা থেকে বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু র‌্যাম্পে হিল্স থেকে পালানোর পথ নেই।

 

তা বিয়ের পর সংসার করতে কেমন লাগছে?
খুব ভাল! অনেকে বিয়ের আগে ভয় দেখিয়েছিল, বিয়ে মানেই এক্সট্রা প্রেশার নেওয়া। আমার কিন্তু তেমন মনে হচ্ছে না। উল্টে বেশ ভালই লাগছে। বিয়েটা না করলে একটা ভাল অভিজ্ঞতা মিস করতাম। বিয়ের সাতমাস পরেও আমার হনিমুন পিরিয়ড ওভার হয়নি। এখনও আমি রিল্যাক্সের মুডেই আছি। কাজকর্ম নিয়ে একটু কম ভাবছি। প্রচুর খাচ্ছি। ওজন বেড়েছে।

Bipasha-Basu-img2

কিন্তু আপনাকে দেখে তো বেশ ফিটই মনে হচ্ছে!
আমার যতটা ফিট থাকা উচিত, ততটা ফিট নেই। আমার খাওয়া-দাওয়া কন্ট্রোল করা উচিত। ওয়র্কআউট করতে হবে। তবে জীবনটাও তো এনজয় করা দরকার। আমি আপাতত এনজয়ের মুডে আছি।

 

আচ্ছা বাঙালি ছেলে পছন্দ হল না?
এই রে, এত তো ভাবিনি। আমি মনের কথা, হৃদয়ের কথা শুনেছি। উই আর লাইক টুইন সোল্স। আর যেখানে ভালবাসা থাকে, সেখানে বাঙালি-পঞ্জাবি ম্যাটার করে না। আর যদি বলেন, আমরা একে অপরের সংস্কৃতিকে কতটা আপন করে নিতে পেরেছি, তাহলে এই ব্যাপারে আমার চেয়ে করণ অনেক বেশি এগিয়ে। ও পরিষ্কার বাংলা বলতে পারে। আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে দারুণ দোস্তি। বাঙালি রান্না চেটেপুটে খায়। অন্যদিকে আমি এখনও পঞ্জাবি বলতে পারি না। মাঝে-মাঝে মনে হয়, ওর স্কিন আমার চেয়েও কিঞ্চিৎ বাদামি (হাসি)।

 

কলকাতা এলেই সবচেয়ে আগে কী করেন?
খাই। আমি খেতে ভালবাসি। এখানে এলেই মনপ্রাণ ভরে ছোলার ডাল, চিংড়ি মাছের মালাইকারি, কষা মাংস, পোস্ত, দই খাই। যারা কলকাতায় এসে খায় না, তাদের চেয়ে বোকা পৃথিবীতে আর কেউ নয়। আমি আগে দই নিয়ে যেতাম। কিন্তু এখন আর ফ্লাইটে দই নিয়ে যাওয়া অ্যালাও করে না। অথচ করণ দই খেতে খুব ভালবাসে। অবশ্য মা এখন মুম্বইয়ে, তাই আমরা প্রায়ই দারুণ-দারুণ সব বাঙালি পদ খেতে পাই।

Bipasha-Basu-img1

আপনি রাঁধতে জানেন?
অন্য রান্না পারলেও বাঙালি রান্না একেবারেই পারি না।

 

কী সিনেমা করছেন?
কোনও কিছু ফাইনাল হয়নি। একটা কমেডি আর একটা থ্রিলার নিয়ে কথা চলছে।

 

আচ্ছা আপনাকে হয় কমেডি ছবিতে, নাহলে থ্রিলার ছবিতে দেখা যাচ্ছে। আপনার নামের সঙ্গে সেক্সি, হরর কুইন ট্যাগ জুড়ে যাচ্ছে। আপনার মনে হয় না, আপনি টাইপকাস্ট হয়ে যাচ্ছেন?
আমি হয়তো এক ধরনের ছবি করে সাফল্য পেয়েছি, তাই হয়তো সেই ধরনের ছবিই অফার করা হচ্ছে। একটা সময়ে পৌঁছে এক্সপেরিমেন্ট করা যায় না। রিস্ক হয়ে যায়। আমি কেরিয়ারের শুরুতে সিনেমা বাছার ক্ষেত্রে ভুল করেছি, সেই ভুলটা আর করতে চাই না। জীবন এতটা ইজ়ি নয়। আর ট্যাগের কথা বললেন না, এই ইন্ডাস্ট্রিতে বহু মানুষ আছেন, যাঁরা বছরের পর বছর প্রচুর কাজ করেও কোনও ট্যাগ জোগাড় করতে পারেননি। আপনি তো তাও ট্যাগ জোগাড় করেছি। এটা তো ভাল ব্যাপার, তাই না!

 

‘সব চরিত্র কাল্পনিক’-এর পর আপনাকে আর বাংলা ছবিতে পাওয়া গেল না কেন?
আমি তো কাউকে এখানে চিনিই না। তাই কাজের কথা বলতে পারি না। তবে সৃজিত আমাকে ‘নির্বাক’-এর অফার দিয়েছিল। আমি ওকে বলেছিলাম, ‘আমাকে অন্য ছবি দাও। যে ছবিগুলো দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত। বাস্তবের কাছাকাছি।’ বাংলা ছবিও বহুদিন দেখা হয় না।

Bipasha-Basu-img3

আজকাল চারপাশে মেন্টাল ডিপ্রেশনের কথা শোনা যায়। আপনি নিজেও জীবনে নানা ওঠা-পড়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন।
দেখুন একটা কথা মাথায় রাখা দরকার, মেয়েদের জীবনে বিয়েটাই সব নয়। বিয়ে ছাড়াও ভাল থাকা যায়। আমি বিয়ে করে সুখী, সেটা ভগবানের আর্শীবাদ। কিন্তু সকলেই বিয়ে করে সুখী হবে তা নয়, তাই বলে ভেঙে পড়লে চলবে না। লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মেয়েদের একলাই লড়াই করতে হয়। আর সকলের জীবনেই দুঃখ আসে। সেই দুঃখ সহ্য করার শক্তি নিজেকেই সংগ্রহ করতে হবে। এবং জীবনে এগিয়ে যেতে হবে। ওই কষ্টকে আঁকড়ে থাকলে হবে না।

 

নিজেকে ১০ বছর পর কোথায় দেখেন?
(চোখ গোলগোল করে) ১০ বছর! আমি আপনাকে কালকে কী করব সেটা বলতে পারি। খুব চেষ্টা-চরিত্র করে এক সপ্তাহ পর কী করব সেটা বলতে পারব। কিন্তু অত পরে কী হবে সেটা ভাবতেই আমার কষ্ট হচ্ছে, বলব কী!