magazine_cover_27_june_17.jpg

Tolly Interview

ছবিতে নাইজেলের সঙ্গে বেড সিন আছে, চুমু খাওয়া আছে। এই রকম চরিত্র প্রথমবার করলাম।

‘সাঁই বাবা’র চরিত্র থেকে সমকামী পুরুষের চরিত্রে অভিনয়। ‘ভাল ছেলে’ ইমেজটা কি এবারে ভাঙতে চলেছেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়? সিরিয়াল, সিনেমা, সংসার নিয়ে তিনি কথা বললেন ঊর্মি নাথের সঙ্গে

 

‘ভ্রষ্ট তারা’, ‘অপলা’, ‘ববির বন্ধুরা’, ‘গোরা’, ‘দুই অধ্যায়’, ‘পরম্পরা’… একটার পর একটা পর সিনেমায় ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। তা হলে কি এবার ছোট পরদা থেকে আপনি পাততাড়ি গোটাতে চলেছেন?
(হাসি)… না না একেবারেই না। এখনই তো দুটো সিরিয়ালে অভিনয় করছি। ‘ওম সাঁই রাম’ এবং ‘তুমি রবে নীরবে’। সিরিয়াল ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই। আসলে এবার পরপর সাত-আটটা ছবি করে ফেললাম।

 

অর্থাত্ বড় পরদার পরিচালকদের কাছে আপনার গুরুত্ব বাড়ছে। কিন্তু আপনি নিশ্চয় মানবেন, এর জন্যও ছোট পরদা দায়ী?
অবশ্যই। সিরিয়াল আমাকে পরিচিতি দিয়েছে, জনপ্রিয়তা দিয়েছে। তবে শুধু সিরিয়ালের জন্য এখন সিনেমায় সুযোগ পাচ্ছি, তা না। আগেও বেশ কিছু সিনেমা করেছি, যেমন ‘বালিগঞ্জ কোটর্’, ‘নামতে নামতে’, ‘রয়েল বেঙ্গল রহস্য’, ‘যেখানে ভূতের ভয়’, ‘গোগোলের কীর্তি’ ইত্যাদি। এই ছবিগুলোও সম্ভবত পরিচালকদের মধ্যে কনফিডেন্স তৈরি করছে যে ভাস্বরের উপর ভরসা করা যায়। শুধু ভরসা নয়, এই ৪১ বছর বয়সে এসে নতুন ধরনের চরিত্রও পাচ্ছি। সিনেমার গল্প আমাকে কেন্দ্র করে লেখা হচ্ছে। এটা কিন্তু বড় পাওয়া।

 

৪১! আপনার?
হ্যাঁ, এই বছর ৪১-এ পা দিয়েছি (হাসি)!

 

আপনি তো দেখছি টলিউডের ‘রেখা’! এর পিছনের রহস্যটা কি বলা যাবে?
নিশ্চয় (হাসি)। আমি খুব সময় মেনে চলি। রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ি, সকাল ছ’টায় উঠি। প্রতিদিন ব্যায়াম করি, সাঁতার কাটি। আমি ধূমপান করি না, মদ খাই না, লেট নাইট পার্টিতে যাই না। অনেক কিছুতে ‘না’ বলতে শিখেছি। শরীর ঠিক রাখার জন্য এই ‘না’ বলাটা খুব দরকারি।

 
সিরিয়াল ও সিনেমার শুটিংয়ের শেডিউল সামলে ঠিক সময়ে নাওয়া-খাওয়ার সুযোগ পান কী করে?
আমার গিন্নি নবমিতাও এই প্রশ্নটি করেন (হেসে)। ও বলে, “আমার ভাই (গৌরব চট্টোপাধ্যায়) সেই কোন সকালে বেরিয়ে রাত দুটোয় ফেরে, আর তুমি এত কিছু করে সন্ধ্যে সাতটার মধ্যে ঢোকো কি করে? আমার একটাই উত্তর, ভাল ব্যবহার। ভাল ব্যবহার করলে সব কিছুই ম্যানেজ করা যায়। সত্যি বলতে কী, আমি এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রচুর ভালবাসা পেয়েছি। হয়তো এই কারণেই কাজ করতে পারছি। শুধু কেরিয়ার নিয়ে মেতে থাকি না। সংসার যখন করছি, তখন সেখানেও সময় দেওয়া উচিত বলে মনে করি। নবমিতা আর আমি দু’জনেই খুব ঘুরতে ভালবাসি। এইতো ক’দিন ছুটি পেয়েছি, নবমিতাকে নিয়ে লখনউ আর বেনারস ঘুরতে যাব। তখন অবশ্য নো ডায়েট। বেনারসে রাবড়ি আর লখনউয়ে কাবাব না খেলে ঘোরাটাই বৃথা হবে (হাসি)।

 
bassor-1
আবার কাজের কথায় ফিরে আসি। আপনি বলছিলেন সিনেমায় নতুন ধরনের চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন…
শতরূপা সান্যালের ‘অপলা’ ছবিতে একজন সমকামী পুরুষের চরিত্রে অভিনয় করছি। এই ছবিতে নাইজেলের সঙ্গে বেড সিন আছে, চুমু খাওয়া আছে। এই রকম চরিত্র প্রথমবার করলাম। সত্যি বলতে কী, শট দেওয়ার আগে আমি বেশ টেনশনে ছিলাম। একে বেড সিন তার উপর পুরুষকে চুমু খাওয়া। ঘাম ছুটে যাওয়ার মতো অবস্থা। নাইজেলও টেনশনে ছিল। শতরূপাদির সাহায্যে আমরা দু’জনে টেনশন মুক্ত হতে পেরেছিলাম। এর আগে অবশ্য ‘নামতে নামতে’ ছবিটায় একটা বোল্ড সিন করেছিলাম, তবে পুরুষের সঙ্গে নয়। একজন পুরুষের সঙ্গে প্রেমের দৃশ্যটা ফুটিয়ে তোলা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

 

এই চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে কি ‘গুড বয়’ ইমেজটা ভাঙতে চাইছেন?
খুব যে সচেতন ভাবে করি তা নয়। তবে অন্য রকম চরিত্র পেলে অবশ্যই করতে চাই। যেমন ‘গোগোলের কীর্তি’-তে একজন ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। এতে যেমন বিভিন্ন চরিত্রে কাজ করার আনন্দ পাই, একঘেয়েমি কাটে তেমন দর্শকরাও বোঝেন ভাস্বর ‘ভাল ছেলে’র বাইরে অন্য চরিত্রে অভিনয় করতে পারে।

এমন একটা চরিত্র যা অভিনয় করা আপনার স্বপ্ন?
‘কৌশিস’-এ সঞ্জীবকুমারের চরিত্রটি।

 

১৭ বছরের লম্বা কেরিয়ারে আর্থিকভাবে নিজেকে কতটা শক্ত করতে পেরেছেন?
bassor-3অনেকটা। আমি অভিনয়ে আসার আগে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলাম। একেবারে শূন্য থেকে শুরু করেছিলাম। ১৭ বছর পর আর্থিকভাবে আমি নিশ্চিন্ত। প্রয়োজনীয় সব কিছুই আছে। আর্থিকভাবে নিজেকে সামলাতে পারি, প্রয়োজনে অন্যকেও সামলাতে পারব। যদি বলেন ১৭ বছরের কেরিয়ারে কি পেয়েছি? তা হলে বলব এই আত্মবিশ্বাস। আমি এমন অনেক বিখ্যাত মানুষকে দেখেছি, যাঁরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কাজ নেই, কী দুর্দশা! ঈশ্বরের কৃপায় আমাকে কোনওদিন আর্থিক সংকটে পড়তে হয়নি।

 

পর্দার পিছনে কোনও দিন কাজ করার ইচ্ছে নেই? আপনি তো গল্প লেখেন। নিজের লেখা গল্প নিয়ে ছবি করার ইচ্ছে নেই?
ইচ্ছে আছে, পরিচালনায় আসার। জানি না কবে সেই দিন আসবে। তবে প্রোডাকশন শুরু করব। গল্প তো এখন সময় পেলেই লিখি, তবে সিনেমার জন্য নয়, আনন্দবাজার পত্রিকার বাংলা ম্যাগাজ়িনে প্রকাশ পেলে দারুণ ভাল লাগে।