magazine_cover_12_decemberr_18.jpg

 

Home review detail মার্শাল আর্টসের জয়!

মার্শাল আর্টসের জয়!

baaghi-still
বাগী
পরিচালক: সব্বির খান
অভিনয়: টাইগার শ্রফ, শ্রদ্ধা কপূর, সুধীর বাবু, সুনীল গ্রোভর

প্রাক্তন প্রেমিকাকে বাঁচাতে ভিলেনের ডেরায় নায়কের হানা…মোটের উপর এই হল ‘বাগী’র গল্প। চোখ বন্ধ করে বলা যায়, যতই অক্ষয়কুমারের জয়জয়কার এতদিন করা হোক না কেন, হিন্দি ছবির জগতে, ‘বাগী’ই প্রথম ‘মার্শাল আর্টস মুভি’। অক্ষয়কুমার বহু ছবিতে দারুণ মুভস দেখিয়েছেন, বিদ্যুত্ জামওয়ালের মতো নতুনরা চমকে দিয়েছেন দুর্দান্ত সব মুভে…কিন্তু ‘বাগী’র মতো মার্শাল আর্টকে কেন্দ্র করে ছবি আগে দেখা যায়নি বলেই মনে হচ্ছে। আর টাইগার শ্রফ মার্শাল আর্টে সিম্পলি অসাধারণ। কোনও কথাই হবে না তাঁর ওই গুণটি নিয়ে। পরিচালককেও কুর্নিশ, শাওলিন কুংফু বা উশুতে মজে থাকা ভারতীয় দর্শকের কাছে কলারিপয়াট্টুকে অন্যভাবে তুলে ধরা। ডান্স রিয়েলিটি শোয়ের সৌজন্যে, ঢাল-তলোয়ার ছাড়াও যে দক্ষিণী এই মার্শাল আর্টটির অস্তিত্ব আছে, তা-ই তো জানা ছিল না। তার উপর তার সঙ্গে কুংফু-র ‘গুরু-শিষ্য’ সম্পর্কটিও আমাদের কাছে ‘নতুন’। তবে এই মার্শাল আর্টে একটা সমস্যা আছে। পরিচালক মশাই দৃশ্য ধরে-ধরে জ্যাকি চ্যানের বিখ্যাত ‘ড্রাঙ্কেন মাস্টার’ থেকে ‘টুকেছেন’। এমনকী, এন্ডস্ক্রোলেও জ্যাকি চ্যান-ছবির ঘরানার ‘ব্যর্থ প্রচেষ্টা’র দৃশ্য।

জ্যাকি চ্যানের কমেডি টাইগারের নেই। তাই তাঁকে আনতে বলা হয়েছে রাগ। এদিকে ব্রুস লির মতো ঠান্ডা রাগও তাঁর নেই। তবুও, মাঝে-মধ্যে খ্যাপা ষাঁড়ের মতো হাঁটাচলা করলেও, মোটের উপর ‘রাগী’ টাইগারকে মন্দ লাগেনি। মুশকিল এই, ছবির শুরু এবং শেষ এখানেই (অবশ্য, ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’ই বা কী এমন ‘শিল্প’ ছিল?)। শ্রদ্ধা কপূরের ‘প্লাস্টিক’ অভিনয় এবং অ্যাকশন বেশ একঘেয়ে। বৃষ্টি পড়লেই নায়ক-নায়িকার দেখা হয়, অন্তত মার্শাল আর্ট ছবির ক্ষেত্রে এটা অত্যন্ত হাস্যকর। ‘কমেডি নাইটস’ খ্যাত সুনীল গ্রোভরের ভাঁড়ামোও বেশ খারাপ। বিরাট চেহারা থাকলেও ভিলেনের চরিত্রে সুধীর বাবু যেন বড্ড ‘ভালমানুষ’। এটাও বোঝা গেল না ভিলেন রাঘব কী এমন ক্রাইম করে বিভিন্ন দেশের পুলিশের এতটা অধরা হয়ে উঠেছে! আর একটা কথা…‘বাগী’ তো বিদ্রোহী। কীসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল ছবির নায়ক?

তবে সব ছাড়িয়ে, মার্শাল আর্ট এবং টাইগার শ্রফে ভর করে, ছবিটি কিন্তু মন্দ লাগে না।

অরিন ঘোষ,লেক টাউন।