Author Archives: admin

eela-small

হেলিকপ্টার ঈলা

আবেগের ওভারডোজ় বোঝেন? হেলিকপ্টার ঈলাকে তার সমার্থক ধরতেই পারেন। একজন ছেলেসর্বস্ব ঘ্যানঘ্যানে মা আর তার স্মার্ট ছেলে

eela-poster

হেলিকপ্টার ঈলা

আবেগের ওভারডোজ় বোঝেন? হেলিকপ্টার ঈলাকে তার সমার্থক ধরতেই পারেন। একজন ছেলেসর্বস্ব ঘ্যানঘ্যানে মা আর তার স্মার্ট ছেলে— এই হচ্ছে গপ্পের মোদ্দা কথা।

আবেগের ওভারডোজ়

হেলিকপ্টার ঈলা

eela-still

পরিচালনা: প্রদীপ সরকার

অভিনয়ে: কাজল, ঋদ্ধি সেন, টোটা রায় চৌধুরী, নেহা ধুপিয়া

আবেগের ওভারডোজ় বোঝেন? হেলিকপ্টার ঈলাকে তার সমার্থক ধরতেই পারেন। একজন ছেলেসর্বস্ব ঘ্যানঘ্যানে মা আর তার স্মার্ট ছেলে— এই হচ্ছে গপ্পের মোদ্দা কথা। না আরও ভাল করে বলতে গেলে ছেলের ক্রমাগত মাকে বুঝিয়ে যাওয়া যে, মা গো, আমাকে স্পেস দাও, আমাকে নিজের মতো থাকতে দাও ইত্যাদি নিয়ে খিচুড়িমার্কা একখানা ছবি নামিয়েছেন পরিচালক প্রদীপ সরকার। হ্যাঁ মেনে নিচ্ছি এটা বলিউড ছবি, এখানে লার্জার দ্যান লাইফ আর বিনোদনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তাই বলে গল্পের গরু এভাবে গাছে উঠে যাবে? ঈলা রাইতুরকর (কাজল), স্বপ্ন তার প্লে ব্যাক সিঙ্গিং, নিজের মিউজ়িক ভিডিও লঞ্চ করা । এদিকে যেই সেই ভিডিও শুটিং স্থগিত হয়ে গেল অমনি সে করে ফেলল বিয়ে। ইতিমধ্যে ছেলেও হয়ে গেল, আর তার স্বামীও হঠাৎ করে মৃত্যুভয় ডেস্টিনি ইত্যাদি গল্প দিয়ে তাকে ছেড়ে চলে গেল। তারপর পরে রইল কী? একা মায়ের ছেলেকে বড় করে তোলা, যার সিংহভাগ জুড়ে শুধু ছেলে ভিভান( ঋদ্ধি সেন)-এর চারপাশে হেলিকপ্টারের মতো ঈলার জীবনযাপন। ছেলেকে ছাড়া আর কিছু বোঝে না সে। এমনকি ছেলে যখন নিজের জন্য কিছু করতে বলে তখনও সে খুঁজে নেয় স্নাতক শেষ করার জন্য ছেলের কলেজ। কাগজে তার নাম ছাপা হয় একজন সিঙ্গল মাদারের পুনরায় পড়াশুনো শুরুর তকমা দিয়ে। তারপর? গোটা ছবি জুড়ে শুধু মা আর ছেলের লড়াই। ছেলে বলে আমাকে স্পেস দাও, মা বলে তুই আমার সব। ফলে দু’ ঘণ্টা এগারো মিনিট ছবিটিতে আগ্রহ ধরে রাখা ভীষণই শক্ত। ভিভানের সাফোকেশন দর্শকের মধ্যেও সঞ্চারিত হবে! কেন শেষ হচ্ছে না ছবিটা! মানে ঠিক বোঝা গেল না পরিচালকের বক্তব্য, ঠিক কী মেসে‌জ তিনি দিতে চেয়েছেন। ভারতীয় বাবা মায়ের ছেলেমেয়েদের উপর থেকে নজরদারি হঠানো উচিত? মানুষ নিজের স্বপ্নপূরণ যে কোনও বয়সে করতে পারে? আরে বলতে চাইছেনটা কী? ক্লাইম্যাক্সের দৃশ্য তো সম্পূর্ণ অবাস্তব, আবেগের রসে মাখোমাখো। গানগুলো পর্যন্ত মনে দাগ কাটে না। বাকি রইল অভিনয়— কাজলের পর্দায় উপস্থিতি এখনও মারকাটারি। ঋদ্ধি কোথাও কোথাও বেশ ওভার অ্যাক্টিং করেছেন। টোটার বিশেষ সুযোগ ছিল না খাপ খোলার। নেহা ধুপিয়া অল্পসময়ে বেশ ভাল ছাপ রেখেছেন। সবমিলিয়ে ‘হেলিকপ্টার ঈলা’ সামাজিক কাঠামো আর বিনোদনকে মিশিয়ে বানাতে চাওয়া একটি হতাশ করা ছবি, নিঃসন্দেহেই।

villain-small

ভিলেন

গাড়ি ওড়াতে শুধু রোহিত শেট্টি পারেন না, বাবা যাদবও পারেন! আর সেই উড়ন্ত গাড়ির জ্বলন্ত অংশ গল্পের হিরোর দিকে ছুটে এলে, তার গায়ে কিন্তু একটা আঁচড়ও লাগে না!

villain-poster

ভিলেন

গাড়ি ওড়াতে শুধু রোহিত শেট্টি পারেন না, বাবা যাদবও পারেন! আর সেই উড়ন্ত গাড়ির জ্বলন্ত অংশ গল্পের হিরোর দিকে ছুটে এলে, তার গায়ে কিন্তু একটা আঁচড়ও লাগে না! এই না হলে হিরো! না, ছবিটা কিন্তু মোটেও খারাপ না।

সাসপেন্স আর অতিরিক্ত মারপিট…

ভিলেন

villain-still

পরিচালনা: বাবা যাদব

অভিনয়ে: অঙ্কুশ হাজরা, মিমি চক্রবর্তী, ঋত্বিকা সেন

গাড়ি ওড়াতে শুধু রোহিত শেট্টি পারেন না, বাবা যাদবও পারেন! আর সেই উড়ন্ত গাড়ির জ্বলন্ত অংশ গল্পের হিরোর দিকে ছুটে এলে, তার গায়ে কিন্তু একটা আঁচড়ও লাগে না! এই না হলে হিরো! না, ছবিটা কিন্তু মোটেও খারাপ না। হিরো যেখানে এমন দুর্দান্ত, সেখানে ছবির নামের যথার্থতা প্রমাণ করার জন্য ভিলেনও ততটাই জবরদস্ত!

গল্পের শুরু দুই মিষ্টি নায়িকাকে দিয়ে। সিঙ্গাপুর থেকে কলকাতাগামী ফ্লাইটে দেখা হয় স্নেহা (ঋত্বিকা) ও রিয়ার (মিমি)। বন্ধুত্ব হতেও সময় লাগে না। কিন্তু এয়ারপোর্টে স্নেহার হবু বড় জয়কে (অঙ্কুশ) দেখে অবাক হয়ে যায় রিয়া। তাকে দেখতে অবিকল রিয়ার নিজের প্রেমিক রাজার (নিঃসন্দেহে এই চরিত্রেও অঙ্কুশ) মতো! নিজের চোখকে অবিশ্বাস করে রাজার বাড়ি ছুটে যায় রিয়া। কী জানতে পারে গিয়ে? কোথায় রাজা? রাজা আর জয় কি একই মানুষ না অন্য?

গল্পে বেশ একটা রহস্যের রেশ রয়েছে। রয়েছে সাসপেন্সও। পাশাপাশি মিষ্টি প্রেম, প্রচুর অ্যাকশন, বিদেশের মাটিতে গান, পার্টিতে নায়িকাদের লাস্যময়ী নাচ— বিনোদনের অভাব নেই এক মুহূর্তও। অঙ্কুশের ডাব্‌ল রোল। ফলে দুই চরিত্রের দু’ রকম শে়ড অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে তাঁকে। তাতে তিনি অনেকটাই সফল। পাশাপাশি করতে হয়েছে অনেক অ্যাকশন। সেখানে অবশ্য তাঁর পেশিবহুল শরীরের তারিফ না করে উপায় নেই! তবে বেশি ভাল লাগে মিমিকে। সুন্দর চেহারা, শক্তিশালী অভিনয় ও যথাযথ অভিব্যক্তিতে বাকিদের চেয়ে অনেকটাই বেশি নজর কেরেছেন তিনি।

প্রেম-রহস্য মিলিয়ে একটা জম্পেশ গল্পের অবশ্য তাল কাটে অতিরিক্ত মারামারির দৃশ্যে। গল্প একটু গড়াতে না গড়াতেই যদি দু’ মিনিটে একটা করে মারপিটের সিকোয়েন্স আসে, তাহলে অতি ভাল অ্যাকশনও কিছুক্ষণ পরে একঘেয়ে লাগতে বাধ্য। আর হতাশ করলেন ঋত্বিকা। তাঁর অভিনয় মনে দাগ কাটল না কিছুতেই। গল্পের এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রের প্রতি আরও অনেকটা সুবিচার তিনি করতেই পারতেন।

সব শেষে বলা যায় যে শুধুমাত্র আরও একটি বিনোদনের ছবি হিসেবে থেকে গেল না ‘ভিলেন’। অতিনাটকীয়তা থাকলেও বেশ সুচিন্তিত একটা গল্প রয়েছে এই ছবির। এবং শেষ দৃশ্য পর্যন্ত ধরে রেখেছে রহস্যের জট খোলার আমেজ।

monoj-de-small

মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি

নীল আকাশে উ়ড়ে বেরাচ্ছে চার-পাঁচটা ঘুড়ি। সকালের জলখাবার, লুচি আর ছোলার ডাল। সন্ধে নামছে মা-ঠাকুমার শঙ্খধ্বনি গায়ে মেখে। মাঠ ছেড়ে ঘরে ফিরছে পড়ুয়ার দল। এবার শুরু হবে দুলে-দুলে পড়া।

monoj-de-poster

মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি

নীল আকাশে উ়ড়ে বেরাচ্ছে চার-পাঁচটা ঘুড়ি। সকালের জলখাবার, লুচি আর ছোলার ডাল। সন্ধে নামছে মা-ঠাকুমার শঙ্খধ্বনি গায়ে মেখে। মাঠ ছেড়ে ঘরে ফিরছে পড়ুয়ার দল। এবার শুরু হবে দুলে-দুলে পড়া। পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ বিস্মৃতপ্রায় এক ছেলেবেলাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।

এক টুকরো ছেলেবেলা…

মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি

monoj-de-still

পরিচালনা: অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়

অভিনয়ে: সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সন্ধ্যা রায়, ব্রাত্য বসু, আবির চট্টোপাধ্যায়, সোহম মৈত্র, পূরব শীল আচার্য

নীল আকাশে উ়ড়ে বেরাচ্ছে চার-পাঁচটা ঘুড়ি। সকালের জলখাবার, লুচি আর ছোলার ডাল। সন্ধে নামছে মা-ঠাকুমার শঙ্খধ্বনি গায়ে মেখে। মাঠ ছেড়ে ঘরে ফিরছে পড়ুয়ার দল। এবার শুরু হবে দুলে-দুলে পড়া। পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ বিস্মৃতপ্রায় এক ছেলেবেলাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। স্মার্টফোনের যুগে দাঁড়িয়ে এতো রূপকথার মতোই লাগে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’ কিশোর উপন্যাস নিয়ে ছবিটি তৈরি। আর উপন্যাসকেই অনুসরণ করে এগিয়েছে গল্প। তাই বিশদভাবে গল্পের প্রয়োজন নেই। কিন্তু গল্পকে একেবারে এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়। তাই বলি, মনোজের বাড়িতে এক অদ্ভুত ছবি আছে। সেই ছবিটি একটি বাচ্চা ছেলের। কিন্তু সে কে, তার উত্তর নেই? মনোজদের অদ্ভুত বাড়িতে আছে বাজারু ভজবাবু, পিসিমা আদ্যাসুন্দরী দেবী, কিরমিরিয়া ঝি, হ্যারিকেন গরু আর রামু। তারপর রহস্যের প্যাঁচে জড়িয়ে জিলিপির মিষ্টি। বেশ কয়েকজন ভাল অভিনেতা এই ছবিতে আছেন। ফলে টক্করটা জব্বর হয়েছে। তার মধ্যেও কিন্তু হারিয়ে যায়নি মনোজ ওরফে সোহম এবং সরোজ ওরফে পূরব। অনেকদিন পর পরদায় সন্ধ্যা রায়কে দেখে ভাল লাগল। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, আবির, ব্রাত্যকে ভাল লাগে। অভিনয় যখন সাবলীল হয়, তখন নজর পড়ে গল্পে। প্রতিটি মোড়ে গল্পকে ছুঁয়েছে সিনেমা আবার কিছু ক্ষেত্রে নিজের মতো করে (খুব সামান্যই) পরিচালক অঙ্ক মিলিয়েছেন। ধন্যবাদ তাঁকে। আটপৌরে ভাবটা মুছে যায়নি। তাই তো গোরবজল ছেটানো বা বড়ি দেওয়ার মতো হারিয়ে যাওয়া ‘শিল্প’ বড্ড মন ভাল করে দেয়। ‘গরুর পেট খারাপ’, ‘ক্যাটারপিলার সাকসেস অফ পিলার’-এর মতো সংলাপ ভাঁড়ামো আর হাস্যরসের সূক্ষ লাইনটিকে নতুন করে চিনিয়ে দিয়েছে। এমন সহজ, সরল হাসি আজকাল আর আসে না তো! তবে পরিচালক টাইমফ্রেম গুলিয়েছেন। ছবিটিকে সাত আর আটের দশকের মধ্যে আটকে রাখলে ভাল করতেন, তা রেখেওছিলেন। কিন্তু শেষ দৃশ্যে ‘ডিমোনিটাইজ়েশন’ সব নষ্ট করে দিল। আর হ্যাঁ, ডাকাত আর গৃহস্থ প্রায় গা ঘেষাঘেষি করে থাকাটা গৃহস্থকে দুর্ধষ করেছে আর ডাকাতকে জলভাত (তবে শীর্ষেন্দুর গল্পে এমন আশ্চর্য হয়েই থাকে) ছবির গান আকর্ষক না হলেও ভজবাবুর গানটি চমৎকার। কিন্তু প্রথম এবং শেষ দৃশ্যে লেখকের উপস্থিতি না থাকলে ভালই হত। এমন সস্তা চমকের দরকার ছিল না। ছেলেবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই তো প্রাপ্তি।