magazine_cover_12_october_19.jpg

 

Home music news একক অনুপমে মুগ্ধ কলকাতা

একক অনুপমে মুগ্ধ কলকাতা

anupam-roy-anandalok-img1

একজন মানুষ, অন্ধকার স্টেজে একা একটা গিটার হাতে এসে বসলেন। তারপর ধরলেন ‘বাড়িয়ে দাও তোমার হাত…’

মনে হল যেন একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। আসলে অনুপম রায় তো ন’ বছর আগে ব্যাঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় এসেছিলেন একাই। একটা বিশ্বাস এবং ইচ্ছে নিয়ে। ইচ্ছে, নিজের লেখার-সুর করা বাংলা গান গাওয়ার। আর বিশ্বাস, সেই গান গেয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার। ১৪ তারিখ নজরুল মঞ্চের মায়া-আলোভরা সন্ধ্যেয় যখন অনুপম একা ‘বাড়িয়ে দাও’ গাইছেন, তখন মনে হল ন’ বছর পুরনো সেই একা অনুপমকেই যেন ফিরে দেখতে চাইছেন তিনি।

anupam-roy-anandalok-img4

ধরতে চাইছেন, পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানো সেই আদত চারাগাছটিকে, যেটি এখন ডালপালা মেলে মহীরূহে রূপান্তরিত হয়েছে! অনুষ্ঠানের প্রবাহও যেন সেভাবেই হল, একা থেকে আস্তে-আস্তে নিজের মিউজ়িশিয়নদের পেলেন তিনি। আর গিটার, সরোদের স্বর কখন যেন গোটা একটা ‘অর্কেস্ট্রায়’ রূপান্তরিত হল। শ্রোতা-শিল্পী মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’-এ। অনুপম আগেই বলেছিলেন, এই অনুষ্ঠানে সেই গানগুলোই গাইবেন তিনি, যেগুলো প্রাণের খুব কাছে হওয়া সত্ত্বেও সেভাবে গাওয়ার সুযোগ পান না। সেই সূত্রেই তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হল, ‘এবার মরলে গাছ হব’, ‘তারার মতো’, ‘বাক্যবাগীশ’-এর মতো গান। কিন্তু আদতে দেখা গেল, যে গানগুলোকে অনুপম ‘কমচর্চিত’ ভাবেন, সেগুলোতেও হলজুড়ে গলা মেলালেন তামাম দর্শক-শ্রোতা।

anupam-roy-anandalok-img2

দর্শক বললাম, কারণ এই কনসার্ট যতটা শোনার, ততটা দেখারও। প্রতিটি গানে, সরোদের ঝংকারে যে গ্রাফিক্স গোটা স্টেজজুড়ে প্রতিফলিত হচ্ছিল, তাতে বোঝা যাচ্ছিল, কী পরম মমতায় কনসার্টের প্ল্যান করেছেন অনুপম। যেন সগর্বে ঘোষণা করছেন ‘আমি তারার মতো জ্বলব… দেখি আমায় কে আটকায়!’ আক্ষরিক অর্থে মোহিত করে রাখলেন তিনি। তিন ঘণ্টা। অডিও-ভিসুয়াল প্রেজ়েন্টেশনে যে বলেছিলেন, ‘‘আগামী কয়েক ঘণ্টা আপনি আমার চোখে চোখ রাখুন,’’ সেটা যেন ছত্রে-ছত্রে সত্যি প্রমাণিত হল। কারণ তিনি কথা বললেন খুব কম, গান গাইলেন বেশি। আর সেই গানে কখনও ফিরে এল, ‘পিকুর থিম’, ‘আমার মতে’ (এখানে আবার অনুপমের গুরু প্রত্যূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বাজালেন শিষ্যের সঙ্গে), ‘আমার শহরে’, ‘একটাই পরিচয়’-এর মতো নীরব অহংকার, কখনও ‘এখন অনেক রাত’, ‘আমাকে আমার মতো’র মতো সগর্ব ঘোষণা। আর সেগুলো প্রমাণ করে দিয়ে গেল, অনুপম সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে কী অসাধারণ উন্নতি করেছেন। আর সেই উন্নতি যতটা তাঁর নিজের কৃতিত্ব, ততটা তাঁর সহযোগী সদস্য মানে নবারুণ (কিবোর্ড), সন্দীপন (ড্রামস), রিষভ (গিটার), রণরও (বেস)। কারণ একটি ভিডিওতে অনুপম নিজেই স্বীকার করলেন, সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তাঁর পরিণতমনষ্কতায় তাঁর ব্যান্ডমেম্বারদেরও কতটা হাত…

anupam-roy-anandalok-img3

প্রকৃতির স্বার্থে প্রতি টিকিটে একটা করে গাছ পুঁতবেন, এটা তো অনুপম আগেই বলেছিলেন। কিন্তু কনসার্ট শেষ হওয়ার পর মনে হল, ‘ভালবাসা বাকি আছে’ শুধু যেন একটা কনসার্ট নয়। অনুপম প্রকৃতির পাশাপাশি অফুরান ভালবাসা উজাড় করে দিলেন দর্শকদের প্রতি, নিজের সহকর্মীদের প্রতি, নিজের গুরু প্রত্যূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিও। যেভাবে শুরুর দিকে তিনি গেয়েছিলেন, ‘চাই চাই এক অদ্ভুত মুগ্ধতা’, একটা সুযোগ পেয়ে সেই মুগ্ধতার রেশই যেন সঞ্চারিত করলেন সকলের মধ্যে। একক কনসার্টে নিজের ভাল লাগার সঙ্গে জড়িয়ে নিলেন সবাইকে। নিজের কাছেও যেন শিল্পী অনুপমের ভিন্ন মাত্রা যোগ করলেন। এই অনুষ্ঠানে আসলে নিজের চোখেই চোখ রাখতে চেয়েছিলেন অনুপম। আদতে একা কী করতে পারেন তিনি। আর দেখা গেল, তিনি একশো শতাংশ সফল। কারণ উপস্থিত সকলের মধ্যে তো সেই ভাল লাগার রেশ বলে গেল, আসছে বছর আরও বড় করে ফিরে আসতেই পারে একক অনুপম!

anupam-roy-anandalok-img5

সায়ক বসু