magazine_cover_12_september_17.jpg

Tolly Interview

“কী করেছিস রে! কাঁদিয়ে দিলি তো!”

আগামী ২৫ এপ্রিল রিলিজ় করতে চলেছে ‘অপুর পাঁচালি’ (Apur Panchali)। সেই ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বললেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata chatterjee)। শুনলেন অংশুমিত্রা দত্ত।

 

‘অপুর পাঁচালি’র ট্রেলরে ‘পথের পাঁচালি’, ‘অপুর সংসার’-এর ক্লিপিংস দেখানো হচ্ছে। বাঙালিকে নস্ট্যালজিক করার গিমিক নয় কি এটা?
একেবারেই নয়! ‘অপুর পাঁচালি’ নামটার মধ্যেই তো নস্ট্যালজিয়া আছে। আর ওই ছবিগুলোর ক্লিপিং দেখানো যদি গিমিক হয়, তাহলে তো বলতে হয় ছবির গোটা আইডিয়াটাই একটা আস্ত গিমিক। ছবির গল্পই যেখানে ‘অপু’র সাথে জড়িয়ে, সেখানে ক্লিপিংস ব্যবহারকে ‘গিমিক’ বলাতে আমার আপত্তি আছে।

 

ছবিটি কি বায়োপিক?

না। কিছুটা সত্যি ঘটনা অবলম্বনে, কিছুটা ফিকশন। বিশ্বসিনেমার অনেক শিশুশিল্পী একরকমভাবে হারিয়ে গেছেন। ছবির গল্প ‘পথের পাঁচালি’র ‘অপু’ চরিত্রে অভিনয় করা সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে। তিনি এখন একটা ইলেকট্রিকের দোকানে বসেন, ‘অপুর সংসার’-এর অপুর মতোই চিলেকোঠার ঘরে থাকেন। অথচ সিনেমার সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। তার খোঁজ এত বছর কেউ রাখে নি।

 

আপনি তো অপুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কাজটা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
চ্যালেঞ্জ আমার কোথায়? চ্যালেঞ্জ তো কৌশিকদার (গঙ্গোপাধ্যায়)! সত্যজিত্ রায়ের ক্লাসিক নিয়ে ডিল করতে হয়েছে ওঁকে। আর বলতে হয় আই ডি’র (ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত) কথা। তার Point of reference হল পণ্ডিত রবিশঙ্করের সঙ্গীত। আমার কাজটা চ্যালেঞ্জিং অবশ্যই, কিন্তু ওদের মতো নয়। আর এই ছবির এক অমূল্য সম্পদ হল গৌরব (চক্রবর্তী), এটা আমি বারবার সব জায়গায় বলেছি।

 

আপনি নিজেও একজন পরিচালক। পরিচালক হিসেবে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
কৌশিকদার পরিচালনা নিয়ে কথা বলার ধৃষ্টতা আমার নেই। আর গত পাঁচ বছরে কৌশিকদা যা করেছেন, তাতে মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গেছে উনি কী ধরনের ছবি করতে চান। আর কৌশিকদার সঙ্গে আমার কাজ করা তো এই প্রথম নয়। অনেক বছর ধরে কৌশিকদাকে দেখছি। ওঁর কেরিয়ারের বিভিন্ন স্টেজে দেখেছি, কাজ করেছি। কৌশিকদাকে অ্যাসিস্ট করেছি, টেলিভিশনে কাজ করেছি, ‘ব্রেক ফেল’-এ কাজ করেছি। তবে একটা কথা বলতে পারি, ‘অপুর পাঁচালি’ কৌশিকদার অন্যতম শেষ্ঠ কাজ।

 

ছবিটি তো অনেক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে দেখানো হয়েছে। কী রকম ফিডব্যাক পেয়েছেন?
খুব ভাল। সকলের অভিনয় খুব প্রশংসিত হয়েছে, বিশেষ করে পার্নোর। দেখুন, আসলে আমরা সর্বক্ষণ এত সিনেমা নিয়ে নাড়াচাড়া করি যে নতুন করে কোনও ছবি দেখে আর আলাদা করে বিহ্বল হই না। কিন্তু এই ছবিটা দেখে আমরা নিজেরাই খুব ইমোশনাল হয়ে গেছিলাম। শীর্ষদা একজন এমন লোক যাঁর কাছ থেকে কোনও রিঅ্যাকশন বের করাই মুশকিল। সেখানে শীর্ষদা আমাকে নিজে ফোন করে বলেছেন, ‘কী করেছিস রে! কাঁদিয়ে দিলি তো!’ সেটা শুনে আমার ছাতি-টাতি চওড়া হয়ে গেছিল আর কী (হাসতে হাসতে)!

 

বর্তমানে আর কী কী ছবি করছেন?
আপাতত আমার নিজের ছবি ‘লড়াই’-এর শুটিং চলছে। তারপর মহুয়া বলে একটি মেয়ের ‘গ্ল্যামর’, বিরসা’র (দাশগুপ্ত) ছবি আছে, ভেঙ্কটেশের সঙ্গে একটা কাজ করছি। তারপর রাজের (চক্রবর্তী) সঙ্গে একটা ছবি করছি। Im quite a busy man now.