magazine_cover_27_november_18.jpg

Anandalok Review

সুখেরই সঞ্চার

alik_still অলীক সুখ

পরিচালনা: শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়

অভিনয়: দেবশঙ্কর হালদার, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সোহিনী হালদার

‘ইচ্ছে’, ‘মুক্তধারা’র সাফল্যের পর ফের নতুন ছবি নিয়ে হাজির শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়। ‘অলীক সুখ।’ যদিও ছবির ভাল-ম্নদ বিচার করতেই এই প্রতিবেদন, কিন্তু বলতে বাধা নেই, এবারের পরীক্ষাটি বেশ কঠিনই ছিল শিবপ্রসাদ-নন্দিতার কাছে। আর সেটা হল, প্রত্যাশা বহন করার পরীক্ষা। আগের ছবিগুলো মারকাটারি হয়েছে বলেই, এঁদের দু’জনের কাছ থেকে দর্শকদের চাহিদা বেশি। বলা যেতে পারে, পান থেকে চুন খসলেই যেন সমালোচনার খাঁড়া নেমে আসত এঁদের উপর। কিন্তু সেদিক থেকে দেখতে গেলে, এঁর একপ্রকার সফলই। না, ‘ইচ্ছে’ বা ‘মুক্তধারা’ হয়তো হয়নি, কিন্তু ‘অলীক সুখ’ নিজের মতো করেই ভাল। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের কাহিনি অবলম্বনে তৈরি এই ছবিতে ডক্টর কিংশুক গুহর প্রতিপত্তি, সুখী সংসার, ক্ষণিকের ভুলে তাঁর হাতে রোগিনীর মৃত্যু, কিংশুকের স্ত্রীর উপর সেই মৃত্যুর গভীর রেখাপাত…সমস্তরকম উত্থান-পতনই দেখিয়েছেন পরিচালকদ্বয়। আর খুব মুন্সিয়ানার সঙ্গেই। আর তাতে যোগ্য সঙ্গত করেছে জয় সরকারের আবহ সঙ্গীত এবং মুখ্য তিন চরিত্রের দুর্দান্ত অভিনয়। ঋতুপর্ণা ও সোহিনী স্ব-স্ব চরিত্রগুলি যথাসম্ভব বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। এমনকী, বিশ্বনাথ, সায়ণী বা খরাজও ছোট্ট পরিসরে ভাল। কিন্তু লাইমলাইট বোধ হয় একা কেড়ে নিয়েছেন দেবশঙ্কর হালদার। থিয়েটার জগতের এই শিল্পীকে এই ছবিতে দেখতে যেন নতুন করে ভাল লাগে। যদিও, তাঁর বারবার হাত নাড়া, মাঝে-মাঝে কথা বলতে গিয়ে একই শব্দের পুনরাবৃত্তি একটু চোখে বা কানে লাগে। কিন্তু অভিনয় অনবদ্য। তা বলে কি এই ছবিতে খারাপ কিছুই নেই? নিশ্চয়ই আছে। কিছু জায়গায় অতিনাটকীয়তা, দ্বিতীয়ার্ধের গতি কোনও কোনও জায়গায় একটু শ্লথ হওয়া, সোহিনীর উপস্থিতিকে একেবারে ‘ভূতুড়ে’ভাবে দেখানো… দেখতে একটু খারাপই লাগে। কিন্তু সেসবই এড়িয়ে যাওয়া যেতে পারে। কারণ সব মিলিয়ে ছবিটি ভাল এবং মনে কিছুটা হলেও রেশ রেখে যায়।

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]