magazine_cover_12_october_17.jpg

Music Interview

বলিউড এবং টলিউডের অন্যতম প্রতিশ্রুতিমান গায়িকা আকৃতি কক্করের (Akriti Kakar) সঙ্গে কথা বললেন আসিফ সালাম

kakkar
একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আপনার গলা দিয়ে আর সুর বেরচ্ছে না…
(চোখ বড়-বড় করে) প্লিজ় এরকম বলবেন না! হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে! এরকম সকাল আসলে, আমি আবার ঘুমোতে চলে যাব। তারপর আবার ঘুম থেকে উঠে যদি দেখি গলার একই অবস্থা, তা হলে আমি চাইব সারাজীবনের জন্য ঘুমিয়ে পড়তে। গান ছাড়া আমি আসলে আর কিছুই করতে পারি না। তাই গলা দিয়ে যদি সুরই না বেরোয়, তা হলে আমার আর কিছু করার থাকবে না।

অভিনয় তো করতে পারবেন! বর্তমানে এই দেশের অন্যতম সুন্দরী ফিমেল প্লে-ব্যাক সিঙ্গার আপনি। নায়িকা হওয়ারও নিশ্চয়ই প্রচুর প্রস্তাব পেয়েছেন।
তা পেয়েছি। কিন্তু আমি একেবারেই অভিনয় করতে পারি না। আর আমার কোনও আগ্রহও নেই। আমি গান নিয়েই দিব্যি আছি।

আকৃতি কক্কর নামটির সঙ্গে বলিউড যতটা পরিচিত, তার চেয়ে কিন্তু টলিউডে আপনার পরিচিতি অনেক বেশি…
তা হয়তো ঠিক। এখনও অবধি আমার গাওয়া প্রায় সব বাংলা গানই হিট করেছে। আর এর জন্য সবচেয়ে জিত্‌দাকে (গঙ্গোপাধ্যায়) সবচেয়ে বড় ধন্যবাদ দিতে চাই। আজ পশ্চিমবঙ্গে মানুষ আমাকে যতটা চেনেন, তার পুরো কৃতিত্ব জিত্‌দা’র। কলকাতাকে আমি সেকেন্ড হোম মনে করি। কিন্তু তাই বলে মুম্বইকে কখনও খাটো করতে পারব না। আজ সিঙ্গার হিসেবে আকৃতি কক্করকে পরিচিতি দিয়েছে বলিউড। সেটা না হলে তো টলিউডে ডাকই পেতাম না।

তা বলিউডে জায়গা করে নেওয়ার জন্য আপনাকে নিশ্চয়ই প্রচুর স্ট্রাগ্ল করতে হয়েছে?
আমি দিল্লিতে বর্ন অ্যান্ড ব্রট আপ। পাঞ্জাবি মিড্ল ক্লাস ফ্যামিলিতে বড় হয়েছি। আমরা তিন বোন। বাবার ছিল অটোমোবাইল ফিল্টারের ব্যবসা। মা মিউজ়িক টিচার ছিলেন। মায়ের জন্যই গান বাজনাতে আসা। ক্লাস ইলেভেনে পড়াকালীন আমি দিল্লিত লাইভ কনসার্ট করা শুরু করি। ধরুন মুম্বইয়ের বড় কোনও আর্টিস্ট পারফর্ম করবেন। তার আগে মিনিট কুড়ির জন্য আমাকে পারফর্ম করার সুযোগ দেওয়া হত। আমাকে ট্র্যাকে গাইতে হত কারণ ব্যান্ডের জন্য বাজেট থাকত না। তখন মনে আছে, একটা মাইনাস ওয়ান ট্র্যাকের জন্য ১০,০০০ হাজার টাকা খরচ হত! তাই আমি কুড়ি মিনিটের বেশি গাইতেও পারতাম না। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ের অত টাকা কোথায়? এই শোগুলিতে কে কে, মিকা, শঙ্কর মহাদেবন, বিশাল-শেখরের মতো বড় মাপের শিল্পীদের সঙ্গে আলাপ হত। আমি সঙ্গে-সঙ্গে ওঁদের মোবাইল নম্বর নিয়ে নিতাম। ভাবতাম যদি কখনও মুম্বই যাওয়ার সুযোগ হয়, তা হলে ওঁদের সঙ্গে একবার দেখা করার চেষ্টা করব। ক্লাস টুয়েলভের পরীক্ষার আগে বাবা আমার সামনে একটি শর্ত রাখেন। যদি আমি ভাল রেজ়াল্ট করি, তা হলে আমাকে মুম্বই নিয়ে যাবেন। আমার আর্টস ছিল। আমি ৯২ পার্সেন্ট পেয়েছিলাম! সেবছর আর্টসে আমি দিল্লির মধ্যে প্রথম হই। বাবা কথা রেখেছিলেন। মাস ছয়েকের জন্য ব্যবসা গুটিয়ে আমাকে মুম্বই নিয়ে যান। যে সেলেব্রিটি সিঙ্গারদের নম্বর ছিল, ওখানে গিয়ে সবাইকে ফোন করি। কেউ এন্টারটেন করেন, কেউ বা আবার মুখ ফিরিয়ে নেন। প্রথম ব্রেক পাই বিশাল-শেখরের হাত ধরে। ‘দশ’ ছবিতে একটি গানে আমি কিছুটা অংশ গাই। বাকিটা ইতিহাস। এদিকে টলিউডে হাতেখড়ি হয় জিত্‌ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরে। ওঁর স্ত্রী চন্দ্রাণী আমার গান শোনেন এবং জিত্‌দা’র কাছে আমাকে রেফার করেন। আই উইল বি গ্রেটফুল টু দেম।

এমন কোনও সুরকার যাঁর সঙ্গে কাজ করতে চান?
এ আর রহমান।